সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

আত্মকথন: ডিসিপ্লিনের সাথে পথচলা…

  আত্মকথন: ডিসিপ্লিনের সাথে পথচলা… ছোটবেলা থেকে আম্মুর কাছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনতাম। তবে বেশি শুনেছি ঢাবি, রাবি, জাবি, বুচুকুরুয়েটের নাম। ইন্টারনেটের তেমন একসেস না থাকায় জ্ঞানের দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিলাম।  ২০২২ সালে কুরবানির ঈদের ছুটিতে একবার বন্ধু ফয়সাল ও তূর্যের সাথে খুলনা ঘুরার সময় খুবিতে এসেছিলাম। কিন্তু তখন কে জানত যে আমার ভবিষ্যত এখানেই লেখা আছে!  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কি সাবজেক্ট আছে, তাও জানতাম না। এডমিশন টাইমে ২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একদিন কৌতুহল নিয়ে খুবির ওয়েবসাইটে ঢুকি কি কি ডিপার্টমেন্ট আছে জানার জন্য। সেদিন প্রথম জেনেছিলাম এখানে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং সাবজেক্ট আছে! তখন আমি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রেপ ফোকাসড থাকায় পাব্লিক ভার্সিটেগুলোতে কি কি সাবজেক্ট আছে জানতাম না। সেদিন ওয়েবসাইটে ডিসিপ্লিন হেডের ম্যাসেজে (শামীম স্যারের) মাধ্যমে জানতে পারি যে খুবির সিএসই প্রতিষ্ঠার দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় ডিপার্টমেন্ট। তারপরও সেদিন কেমন যেন একটু অবজ্ঞা করেছিলাম; সেজন্যই হয়ত আমার কপালে এটাই লেখা ছিলো!  আমার সাথে ডিসিপ্লিনের সম্পর্কের শুরু হল ২০২৩ সালের ...

Blog 005: বিপদনামা

 বিপদনামা (একেলা ভ্রমণের যত কিম্ভুত কিচ্ছা) পনে-একঃ খুলনা টু যশোর পুজার ছুটিতে মামাবাড়ি গিয়েছি। রকেট ট্রেনে করে ফিরছি আমার কম্পিউটার সাথে নিয়ে। যশোর থেকে অল্প দূরে "সিঙ্গিয়া" নামক স্টেশনে ট্রেন থেমে গেল। শুনতে পেলাম, কোর্টচাঁদপুরে ট্রেন একসিডেন্ট হয়েছে। পেলাম ভয়, ট্রেন কখন ছাড়বে কেউ জানে না। বাসায় ফোন দিলাম। আম্মু আমার প্রতিবেশি বন্ধু ফয়সালকে নিয়ে মাইক্রো ভাড়া করে আসলো। আধা ঘন্টা একা লাগেজ নিয়ে সিঙ্গিয়া স্টেশনে বসে ছিলাম। মজার বিষয়, আমি গাড়িতে ওঠার পরপরই ট্রেন ছেড়ে দিল 🐸🐸 একঃ ময়মনসিংহ টু খুলনা বন্ধু Faisal Hassan আমাকে ময়মনসিংহ থেকে বাসে উঠিয়ে দিয়েছে। বস্তুত এটার আমার একা একা দূরে প্রথম ট্যুর ছিলো। রাজশাহী-ময়মনসিংহ ঘুরে খুলনা ফিরব, নিরাপদে দিনের আলোয় আসব বলে "সোনার মদিনা" এর টিকিট নিয়েছিলাম। বাস এর কোয়ালিটি এক্কেবারে মাশাল্লাহ (লক্কর-ঝক্কর)। যমুনা ব্রিজ পার হওয়ার পর বাস চলতে চলতে খট করে শব্দ হলো। বাস থামালো। এক যাত্রী নিচে নেমে চিৎকার করে সবাইকে বলল নিচে নামতে, ধোয়া বের হচ্ছে। সবাই বের হলাম। ড্রাইভার, হেল্পার মিলে নিচে গুতাগুতি করল। আধা ঘন্টা পর বাস ছাড়লো। সুপাইভা...

Blog 004: আত্মকথন

  #আত্মকথন সময় দ্রুত চলে যায়। সম্মান সমাপ্তির আর দেড় বছর আছে। এখনো মনে হয় এইতো সেদিন ভার্সিটি ঢুকলাম। মনের ভিতরে নিজেকে এখনো জুনিয়র জুনিয়র লাগে; অথচ কাল থেকে আমার নিচে তিন ব্যাচ। এখন লিডিং ব্যাচের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব কাঁধে চলে আসছে। কদিন পর ২১ এর সিনিয়ররা (যাদের সাথে আমি বেশি সময় অতিবাহিত করেছি) ২২ সহ সবাইকে বলে যাবে "তোরা ক্যাম্পাসটা/কোরিডোর দেখে রাখিস"। আমি নিজে কেমন সিনিয়র হতে পেরেছি জানি না। ২০২৬ এর শুরু থেকে মনের ভিতরে কেমন একটা শূণ্যতা কাজ করছিলো। জানি না কিসের সংকেত ছিলো...

এডমিশনে Subject Choice কীভাবে দেবো?

Subject Choice কীভাবে দেবো? আগেই বলে রাখি : "অমুক ভার্সিটির অমুক ইয়ারে এত পজিশনেও এই সাব্জেক্ট পেয়েছে, তাহলে আমিও এই সাবজেক্ট পাবো" - একজনের এমন ধারণা পোষণ করা বাস্তবতা থেকে দূরে থাকা এবং বোকামির সমতুল্য। প্রকৃতপক্ষে এগুলো অনেক ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। যদি একটা ভর্তি পরীক্ষার মেরিট লিস্টের সামনের স্টুডেন্টরা ভর্তি না হয় (ভর্তি প্রক্রিয়া সমাপ্ত ঘোষণার আগে) তবে মেরিট লিস্টের পিছনের স্টুডেন্টরা মাইগ্রেশন প্রসেসের মাধ্যমে একটি সাবজেক্ট পাওয়ার সুযোগ পায়; অন্যথায় পাবে না। আর, মেরিট লিস্টের প্রথম সারির স্টুডেন্টরা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হবে কি হবে না (অন্যভাবে বলতে গেলে: মেরিট লিস্টের পিছনের স্টুডেন্টরা সুযোগ পাবে কি পাবে না) এটা প্রেডিক্ট করা যায় অন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা-রেজাল্ট-ভর্তি কবে হয়েছে সেটার উপর ভিত্তি করে। আরো একটা কথা: এডমিশন জার্নি খুবই আনপ্রেডিক্টেবল। পূর্ব জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে করা প্রেডিকশন অনেক সময় ঘটে না। তাই, একজন এডমিশন ক্যান্ডিডেটের জন্য একটা সুযোগ হাতছাড়া করা "হাতের লক্ষ্মী পায়ে ফেলা"র সমতূল্য। এবার আসি সাব্জেক্ট চয়েজ নিয়ে।  যারা একটা ...

Blog 004: স্মৃতিচারণ প্রসঙ্গঃ বাংলালিংক

স্মৃতিচারণ প্রসঙ্গঃ বাংলালিংক   আব্বুকে সেই ছোটবেলা থেকে দেখেছি বাংলালিংক আর টেলিটক ইউজ করতে। বাংলালিংক এর সাথে আমার অল্প সুখকর স্মৃতি আছে। বাংলালিংক এর একটা বিখ্যাত এড ছিলো "শুনতে কি পাও" । এটার মিউজিক আর ভিডিও, দুটাই আমার খুব পছন্দের। এটা দেখলে সেই সময়ের কথা মনে পড়ে যখন বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট মানুষের হাতে আসা শুরু করেছে। আমার কাছে সেটা এক নস্টালজিক এরা।  ২০১৫ সালে আব্বুর Samsung Galaxy Core Prime ফোনে COC খেলতাম। তখন বাংলালিংকে ৬০ পয়সায় (হ্যাঁ, আমি খুজে বের করেছিলাম) ২ মেগাবাইট প্যাক কেনা যেত। ডাটা সেভিং মোড অন করে সেই ২ এম্বি দিয়ে আমার এক দিনের কাজ চলে যেত।  একবার একটা গান শোনার খুব শখ হয়েছিলো। আব্বুকে বলে অল্প ডাটা কিনেছিলাম। কিন্ত, স্পিড এতো স্লো ছিলো, ফোন নিয়ে বাসার ভিতর ঘুরতে ঘুরতে আবিষ্কার করলাম যে বাসার বাথরুমে 3G তে ভালো স্পিড পাচ্ছে । এটা সম্ভবত ২০১৭ এর কথা আর গানটা ছিলো সম্ভবত Mere Rashke Qamar (Baadshaho)। সেই থেকে আমি "ভাঙ্গালিংক" ডাকা শুরু করি মজা করে।  গতবছর নিজের নামে একটা বাংলালিংক সিম নেওয়ার আগ্রহ হয়েছিলো। তখন তারা একটা ত্রুটিপূর্ণ এড প...

Blog 003: খুবির ডায়েরি... পর্ব ১

ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস এন্ড সার্কিট এক্সাম দিয়ে আমি আর তূর্য বের হয়েছি। একসাথে হেঁটে খাবা গেট দিয়ে বের হব, এমন সময় আমার স্কুলের সহপাঠী আমিনুলের সাথে দেখা। সে এবার সেকেন্ড টাইম দিয়ে ঢুকেছে। আমাদের সব ব্যাচের এক্সাম চলছে আর তাদের ফার্স্ট ইয়ারের ক্লাস চলে। সে ক্যাম্পাসে আসর পর তার সাথে আমার দেখাই হয়নি। প্রথম দেখায় ওকে দাড় করিয়ে অনেক জ্ঞান দিলাম। বস্তুত, ওকে বলেছি এখন থেকেই পড়াশোনায় গতি আনতে যেহেতু ওর সামনে ডিসিপ্লিন ট্যুর, ২০ ব্যাচের র‍্যাগ, টুর্নামেন্টে আসবে, সেই সময় ওর টাইম নষ্ট হবে, আবার, ওরা ১-২ টার্মে টাইম কম পাবে। এমন সময়ে মিফাদের সাথেও দেখা, তিন জিলাস্কুলিয়ান (তাও এক গোয়ালের/সেকশনের) কাকতালীয় পুনর্মিলন। কিছুক্ষণ পরে ওকে বিদায় দিলাম। আমি আর তূর্য হেঁটে হেঁটে জিমনেশিয়াম পার হচ্ছি। আমি বললাম "কিছুটা ডোপামিন রিলিজ করলাম, কেউ রিলিজ করে ধোয়া টেনে, কেউ করে জ্ঞান দিয়ে..."