কে রে তুই? কে রে তুই?
সব সহজ শৈশব কে বদলে দিলি
কিছু যান্ত্রিক বর্জ্যে
তুই কে রে তুই?
যত বিষাক্ত প্রলোভনে আমায় ঠেলে দিলি
কোন এক ভুল স্রোতে...
গতকাল শ্রদ্ধেয় ইমিডিয়েট সিনিয়র ২২ ব্যাচের র্যাগের মধ্য দিয়ে তাদের অনার্স লাইফের অনানুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়েছে। আমাদের ২৩ ব্যাচের এক পা অল্রেডি কবরে চলে গিয়েছে। কখন~কিভাবে এতো বড় হয়ে গেলাম, টেরই পেলাম না যেন। এখনো নিজেকে সেই ফার্স্ট ইয়ার মনে হয়। এইতো সেইদিন কম্পিউটার ল্যাবে প্রোগ্রামিং কনটেস্টে বেলুন ফুলিয়েছিলাম, সেইদিনইতো ক্যাফেতে টিবিটির সাথে যাত্রা শুরু করেছিলাম। এইতো কদিন আগেই যশোর এসোসিয়েশন যাত্রা শুরু করল; নতুন কিছু বন্ধু পেলাম। বয়স বেড়েছে, গ্রাজুয়েশন কাছে এসেছে; কিন্ত মন এখনো সেই ছোটই আছে!
কিভাবে যেন অনার্স লাইফের দিনগুলো কেটে গিয়েছে... সিএসই তে এসে অনেকবারই মনে হয়েছে, ভুল করে চলে এসেছি। সিএসই তে কেন পড়োছ জিজ্ঞাসা করলে এখন থেকে আমি আমার কদিনের রুমমেট আর্কি২১ এর আশফাক ভায়ের মত একটা সুন্দর হাসি দিয়ে বলবঃ ভুল করে চলে এসেছি! সিএসই এর প্রতি প্যাশন আগে(ছোটবেলা) থেকেই। অনেক জেদ করার পর ০৯ সালে আব্বু খুলনা থেকে কম্পিউটার কিনে এনে দিয়েছিলেন। তখন থেকেই ঘাটাঘাটি শুরু। তখনই ইচ্ছ হয়েছিলো, কম্পিউটার নিয়েই ক্যারিয়ার গড়ব। মাঝখান দিয়ে স্কুলের ১০ বছর কাটিয়েছি। কলেজের ২ বছর কেমন যেন চলে গিয়েছে। এডমিশনে সময় কেমন যেন থমকে ছিলো। অনার্সের সাড়ে তিন বছরও কেমন যেন দেখতে দেখতে চলে গেল।
আর বাকি এক টার্ম। এটাও দেখতে দেখতে চলে যাবে। সিনিয়র হয়েছি; নিচে তিন ব্যাচ। জানি না কেমন সিনিয়র হতে পেরেছি, কেমন মানুষ হতে পেরেছি... কদিন পরই ২২ আমাদের হাতে কোরিডোরের দায়িত্ব তুলে দিয়ে যাবে। ছোটবেলায় দিনগুলো সহজ ছিলো। জুনিয়র অবস্থায় ও অতো জটিল ছিল না। এখন ধীরে ধীরে জীবনের সমীকরণগুলো কেমন যেন জটিল হয়ে আসছে। পড়াশোনাও জটিল হয়েছে। কি এক বিচ্ছিরি যান্ত্রিকতায় ঢুকে গিয়েছি! ভিন্ন এক স্রোতে ঢুকে পড়েছি। কিছুই যেন ভালো লাগেনা এখন আর। সেই সোনালি শৈশব ফেরত চাই! ফিরে যেতে চাই সময়ের উল্টা স্রোতে! কিন্ত সময় তো আমাকে নিবে না...
খুলনা
০৮ নভেম্বর ২০২৬
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন